Text size A A A
Color C C C C
Last updated: 13th February 2019

আগামী ১৪-১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত -এ সরকারি সফর বিষয়ে মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

সময়: সকাল ১১:০০ ঘটিকা/ তারিখঃ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ 

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,

 

আসসালামুআলাইকুম।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত -এ সরকারি সফর সম্পর্কে আপনাদের অবহিত করতে চাই।

 

ক. জার্মানি সফরঃ Munich Security Conference

০২।       Munich Security Conference -এর আমন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৫-১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে জার্মানির মিউনিখ-এ অনুষ্ঠিতব্য ৫৫-তম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জার্মান চ্যান্সেলরসহ অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আমি সহ উর্ধ্বতন সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দ অর্ন্তভুক্ত থাকবেন।)

০৩।       Munich Security Conference (MSC) প্রধানত: রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণে সমকালীন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিধানে  উচ্চ পর্যায়ের  বাৎসরিক আলোচনা ও বিতর্কের একটি স্বীকৃত প্লাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। ২০১৯ সালের এই সম্মেলনে ইতোমধ্যে ২৫ জনের অধিক রাষ্ট্র/ সরকার প্রধানসহ বিপুল সংখ্যক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করবেন মর্মে আয়োজক সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

০৪।       ১৯৬৩ সালে Munich Security Conference যাত্রা শুরু হয়। গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এ সম্মেলনে বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিন্যাস (Global Security and Order) পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রেক্ষিত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এটি বর্তমানে বিশ্ব নিরাপত্তা আলোচনায় Best Think Tank Conference হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধের পটভূমিতে এর যাত্রা শুরু হলেও বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার আলোকে এ সম্মেলনের গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি তাই এ সম্মেলনে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা, শরণার্থী ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়সমূহ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।

০৫।       উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন যা ছিল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Climate Change as a Security Threat’ এবং `Health Security Roundtable’ সংক্রান্ত সেশনে সম্মানিত Panelist হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনায় বিশ্বের দেশগুলোর প্রাপ্তি, সম্মেলনের দাতা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অঙ্গীকারসহ বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ,  উদ্বাস্তু ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয় সমূহ স্থান পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

০৬।       এছাড়া, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের জন্য নির্ধারিত সেশন (Speaking Slot) সহ অন্যান্য সেশনে Rohingya Crisis ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে।

০৭।       এ সম্মেলনে আলোচনার মধ্য দিয়ে নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে বিশ্বের শক্তিশালী দেশসমূহের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, বিশ্ব মেরুকরণের মাত্রা ও প্রবণতা সম্পর্কেও  ধারণা লাভ করা যাবে। এছাড়াও জলবায়ুসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অর্জন ও সাফল্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা যাবে। আমরা আস্থার সাথে বলতে পারি, এ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে এবং আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জল হবে।

০৮।       Munich Security Conference-এ অংশগ্রহণের সময়কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জার্মানির চ্যান্সেলর Dr. Angela Merkel এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন বলে আসা করা যাচ্ছে।

০৯।       উল্লেখ্য, জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী ইউরোপের প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি অন্যতম। জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী এবং একক দেশ হিসেবে জার্মানী সার্বিকভাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম (যুক্তরাষ্ট্রের পরে) এবং ইউরোপে সর্ববৃহৎ রপ্তানি বাজার।  সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী Sigmar Gabriel গত ১৮-১৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ সফর করেন এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

১০।        তাছাড়া, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সাথে Global President and CEO of Siemens AG এবং বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান-ভিত্তিক কোম্পানী “Veridos GmbH” -এর CEO -এর পৃথকভাবে সাক্ষাৎ হতে পারে বলে আসা করা যাচ্ছে। [উল্লেখ্য, জার্মানভিত্তিক কোম্পানী সিমেন্স বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং এ বিষয়ক একটি “Joint Development Agreement (JDA) স্বাক্ষর হতে পারে।]

১১।        এ সফরের মাধ্যমে ইউরোপ জুড়ে উগ্র জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির আকস্মিক উত্থান, Brexit পরবর্তী বিষয়াদি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি প্রশমন, চলমান শরণার্থী ও অভিবাসন সংকট, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গীবাদ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে পারষ্পরিক বোঝাপড়া আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা যায় এবং সেই সাথে আমাদের Economic Diplomacy -কে বেগবান করবে বলে আশা করি।

 

খ. সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর t

১২।        সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং দুবাই-এর শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল-মাকতুম এর আমন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৭-১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দ্বিপাক্ষিক  সফর করবেন। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং আমিসহ উচ্চ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ দ্বিপাক্ষিক সরকারী সফরের প্রতিনিধিদলে থাকবো।

১৩।       মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের অন্যতম কর্মসূচী হলোঃ

  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৭ ফেব্রæয়ারি সকালে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিতব্য International Defence Exhibition (IDEX-2019)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন ও এক্সিবিশন পরিদর্শন করবেন।
  • এরপর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং দুবাই-এর শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল-মাকতুম এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
  • তিনি ইউএই-এর আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স এবং আরব আমিরাতের ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মুহাম্মাদ বিন যায়েদ আল নাহিয়ান-এর সাথে বৈঠক করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
  • ১৮ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইউএইর এর জাতির মাতা হিসেবে বিবেচিত প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শেখ যায়েদ বিন সুলতান এর স্ত্রী শাইখা ফাতিমা এর সাথে সাক্ষাত করবেন।
  • উক্ত সফরে তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথে মত বিনিময় সভায় (আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে) অংশ নিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
  • এ সফরকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একধিক সংবাদ মাধ্যমের সাথেও সাক্ষাতকার প্রদান করতে পারেন।

 

১৪।        দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ, দু’দেশের মধ্যে বিরাজমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়করণ এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

১৫।       সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রম বাজার। ইতোমধ্যে ১৯ ক্যাটাগরীতে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাছাড়া চিকিৎসা ও ইঞ্জিনিয়ারিং সহ বেশ কিছু খাতে বাংলাদেশী পেশাজীবীদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ভিসা উন্মুক্ত করেছে। গত বছর আগষ্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউএই সরকার কর্তৃক ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় সেদেশে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশী নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের আরো অধিক কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে ।

১৬।       সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য দুবাই এক্সপোত বাংলাদেশ বৃহত্তর পরিসরে অংশগ্রহণ করবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্ককে আরো সম্প্রসারিত করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ সফরকালে বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিম্নোক্ত দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছেঃ

  1. MOU between the Private Office of H.H. Sheikh Ahmed Dalmook Al Maktoum and Bangladesh Power Development Board (BPDB) for undertaking projects on the development of Liquefied Natural Gas (LNG) Terminal, Power Plant and any other projects of mutual interest.

 

  1. MOU between the Private Office of H.H. Sheikh Ahmed Dalmook Al Maktoum and Bangladesh Investment Development Authority (BIDA) for setting up a Special Economic Zone in Matarbari on 300 acres of land.

১৭।        দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ইউএই এর সহায়তা, বেসামরিক বিমান পরিবহন, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য বিষয়েও দু’দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মত বিনিময় করবেন যা দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে, আমাদের Economic Diplomacy-কে আরো বেগবান করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।

 

১৮।       মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীগণ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং জার্মানি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে তিনি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে ঢাকায় পৌঁছবেন।

 

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

Press briefing. 13.02.19 (1).pdf Press briefing. 13.02.19 (1).pdf

Share with :

Facebook Facebook